আপনার আদরের বিড়ালটির বয়স কত, তা কি আপনি জানেন? মানুষের মতো বিড়ালের জন্মদিন পালন করার চল তেমন একটা না থাকলেও বিড়ালের বয়স জানাটা জরুরি। শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বিড়ালের বয়স বোঝার উপায় একটু কঠিন। তবে মনোযোগ দিয়ে অব্জারভেশন করতে পারলে সহজেই যেকোনো বিড়ালের বয়স জানা সম্ভব।
এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, খাদ্য থেকে শুরু করে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা পর্যন্ত, একটি বিড়ালের বয়স জানা তার সঠিক যত্ন নেওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও পশুচিকিৎসকের সরঞ্জাম ছাড়া সঠিক বয়স নির্ধারণ করা কঠিন, তবুও কিছু শারীরিক এবং আচরণগত লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে আমরা একটি শিক্ষিত অনুমান করতে পারি।
বিড়ালের দাঁত, চোখ, পশম, কার্যকলাপের মাত্রা এবং চলাফেরার ধরন পরীক্ষা করে তার বয়সের পরিসর সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়। যদিও এই পদ্ধতি গুলো যদিও পুরোপুরি নির্ভুল নয়, তবুও এগুলো ব্যবহারিকভাবে বোঝাতে সাহায্য করে যে আপনার বিড়ালটি একটি চঞ্চল বাচ্চা, উৎসাহী তরুণ, নাকি জ্ঞানী প্রবীণ।
এই আর্টিকেলের পরবর্তী অংশ গুলোতে আমরা বিড়ালের বয়স বোঝার উপায় নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো, যাতে আপনি আপনার বিড়ালের বয়স নির্ধারণের মাধ্যমে সঠিক যত্নটা দিতে পারেন।
বিড়ালের বয়স বোঝার উপায় (১০টি সহজ উপায়)
বিড়ালের সঠিক বয়স জানা জরুরি। কারণ, বয়স অনুযায়ী তাদের স্বাস্থ্য ও যত্নের প্রয়োজন ভিন্ন হয়। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় আলোচনা করা হলো, যা আপনাকে আপনার বিড়ালের বয়স বুঝতে সাহায্য করবে:
দাঁত দেখে বিড়ালের বয়স বোঝার উপায়
দাঁত দেখে বিড়ালের বয়স নির্ধারণ করা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম। বিড়ালের দাঁতের গঠন এবং দাঁত ওঠার সময়কাল থেকে তাদের বয়স সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমন:
বিড়ালের দুধের দাঁত সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে গজাতে শুরু করে। এরপর ৪ থেকে ৬ মাস বয়সের মধ্যে দুধের দাঁত পড়ে গিয়ে স্থায়ী দাঁত গজাতে শুরু করে।
পুরো এক বছর বয়সের পর বিড়ালের দাঁতে হলদেটে আভা দেখা যায়। হলদেটে ভাব যত বাড়বে, বয়সও তত বাড়বে। অতঃপর, বয়স্ক বিড়ালের দাঁতে ক্ষয় হতে দেখা যায়। দাঁত ভাঙা বা পড়ে যাওয়াও বয়সের লক্ষণ। পুরো বিষয়টিকে নিম্মে একটি ছকের দ্বারা প্রকাশ করা হলো:
দাঁতের অবস্থা | সম্ভাব্য বয়স |
দুধের দাঁত | ২-৪ সপ্তাহ |
স্থায়ী দাঁত | ৪-৬ মাস |
সামান্য হলদেটে | ১ বছর |
হলদেটে ভাব বেশি | ৩-৫ বছর |
দাঁতের ক্ষয় | ৫ বছরের বেশি (ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশি) |
চোখের তারার পরিবর্তন দেখে বিড়ালের বয়স বোঝার উপায়
বিড়ালের চোখের তারা দেখেও তাদের বয়স আন্দাজ করা যায়। অল্পবয়সী বিড়ালের চোখের তারা সাধারণত উজ্জ্বল এবং পরিষ্কার থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের তারায় কিছু পরিবর্তন দেখা যায়।
অল্পবয়সী বিড়ালের চোখ উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত থাকে। বয়স্ক বিড়ালের চোখের তারায় কিছুটা ঘোলাটে ভাব দেখা যায়, যা চোখের স্বচ্ছতা কমিয়ে দেয়। আর বেশি বয়সের কারণে বিড়ালের দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
পশমের ঘনত্ব ও মসৃণতা দেখে বিড়ালের বয়স বোঝার উপায়
বিড়ালের বয়স অনুমান করার জন্য পশমের ঘনত্ব ও মসৃণতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। ছোট বয়সের (০-৬ মাস) বিড়ালদের লোম সাধারণত খুব নরম, তুলতুলে এবং তুলনামূলকভাবে পাতলা হয়। এ সময় ত্বকের কিছু অংশ দেখা যেতে পারে, এবং লোম চকচকে ও মসৃণ থাকে।
কিশোর বয়সে (৬ মাস – ২ বছর) পশম আরও ঘন হয়ে ওঠে এবং মসৃণতা বাড়ে, কারণ এই সময় বিড়ালের শরীরের বৃদ্ধি দ্রুত হয়। পূর্ণবয়স্ক বিড়ালদের (২-৭ বছর) পশম সবচেয়ে ঘন ও শক্তিশালী থাকে, মসৃণতাও বজায় থাকে তবে কিছুটা রুক্ষভাব দেখা যেতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বয়স্ক বিড়ালের (৭+ বছর) লোমের ঘনত্ব কমতে থাকে, কিছু জায়গায় পশম পাতলা দেখায়। মসৃণতা কমে গিয়ে লোম শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে মুখ ও কানের আশপাশে ধূসর বা সাদা পশম দেখা দিতে পারে। ত্বক ঢিলেঢালা হয়ে যাওয়ার কারণে লোমের গঠনে পরিবর্তন আসে।
শারীরিক গঠন ও ওজনের আলোকে বিড়ালের বয়স বোঝার উপায়
বিড়ালের বয়স অনুমান করতে শারীরিক গঠন ও ওজন বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়সের সঙ্গে বিড়ালের দেহের আকৃতি, পেশির গঠন এবং ওজন পরিবর্তিত হয়।
শিশু বিড়াল (০-৬ মাস) সাধারণত ছোট, হালকা ওজনের এবং তুলতুলে শরীরের হয়ে থাকে। এ সময় এদের পায়ের হাড় তুলনামূলকভাবে সরু থাকে এবং দেহের গঠন দুর্বল দেখায়। জন্মের সময় বিড়ালের ওজন প্রায় ৮৫-১২০ গ্রাম থাকে, এক মাস বয়সে ৩৫০-৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়, এবং তিন মাসের মধ্যে এটি প্রায় ১.৫-২ কেজিতে পৌঁছায়।
যুবক বিড়াল (৬ মাস – ২ বছর) দ্রুত বাড়তে থাকে এবং দেহের পেশি গঠন শক্তিশালী হতে শুরু করে। এদের শরীর আরও দীর্ঘ ও দৃঢ় দেখায়, এবং গড় ওজন ২.৫-৪.৫ কেজির মধ্যে থাকে। এক বছর বয়সে বিড়াল পূর্ণবয়স্ক আকারে পৌঁছায়, তবে কিছু বৃহৎ জাতের বিড়াল (যেমন, মেইন কুন) ২-৩ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল (২-৭ বছর) সম্পূর্ণরূপে পরিপক্ক হয়ে যায়, দেহের পেশিগুলো মজবুত থাকে এবং ওজন স্থিতিশীল হয়ে যায়। গড় ওজন সাধারণত ৪-৬ কেজির মধ্যে থাকে, তবে জাতভেদে এটি কম-বেশি হতে পারে।
বয়স্ক বিড়াল (৭+ বছর) ধীরে ধীরে পেশির ঘনত্ব হারাতে শুরু করে এবং শরীর কিছুটা শীর্ণ হয়ে যেতে পারে। কিছু বিড়াল বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোটা হয়ে যায়, বিশেষ করে কম সক্রিয় থাকলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। ১০ বছর বয়সের পর থেকে অনেক বিড়ালের পেশি দুর্বল হতে থাকে, এবং দেহের গঠন হালকা দেখায়।
কার্যকলাপ এবং আচরণ দেখে বিড়ালের বয়স বোঝার উপায়
জেনে খুব অবাক হবেন এটা জেনে যে, বিড়ালের কার্যকলাপ ও আচরণ দেখে তাদের বয়স অনুমান করা সম্ভব। বয়স অনুযায়ী বিড়ালের শক্তি, খেলার ধরন, ঘুমের সময় এবং সামাজিক আচরণে পরিবর্তন আসে। যেমন:
শিশু বিড়াল (০-৬ মাস) সাধারণত খুব চঞ্চল, কৌতূহলী ও খেলাপ্রিয় হয়। এ সময় তারা চারপাশের সবকিছুতে আগ্রহ দেখায়, দৌড়াদৌড়ি করে, লাফায় এবং ছোটখাটো জিনিস নিয়ে খেলে। তারা প্রায়ই মায়ের বা ভাইবোনের সঙ্গে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে এবং তাদের কামড়ানো বা থাবা মারা স্বাভাবিক আচরণ।
যুবক বিড়াল (৬ মাস – ২ বছর) অত্যন্ত সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়। তারা শিকারধর্মী আচরণ বেশি করে, যেমন লাফিয়ে পড়া, লুকিয়ে থাকার চেষ্টা, শিকারের মতো খেলাধুলা করা। এই বয়সে বিড়ালরা তাদের এলাকা চিহ্নিত করতে পারে এবং কিছুটা স্বাধীন হয়ে ওঠে।
প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল (২-৭ বছর) তুলনামূলকভাবে শান্ত ও সংযত আচরণ করে। তারা এখনো খেলাধুলা করে, তবে ছোট বয়সের মতো অতিরিক্ত চঞ্চলতা দেখায় না। ঘুমের পরিমাণ বাড়ে এবং তারা পরিচিত পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায়।
বয়স্ক বিড়াল (৭+ বছর) সাধারণত কম সক্রিয় হয়ে পড়ে। তারা বেশি সময় ঘুমায়, খেলাধুলায় কম আগ্রহ দেখায় এবং হাঁটাচলায় ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। ১০ বছর পার হলে, অনেক বিড়াল ধীরে চলাফেরা করে এবং সহজেই ক্লান্ত হয়ে যায়। এছাড়া, বয়স্ক বিড়ালের স্বভাব কিছুটা বদলে যেতে পারে। যেমন: কখনো বেশি আদুরে, আবার কখনো কিছুটা গম্ভীর হয়ে যেতে পারে। (It’s her chooise you know!)
নখের পরীক্ষার দ্বারা বিড়ালের বয়স বোঝার উপায়
বিড়ালের নখের গঠন ও অবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদের বয়স অনুমান করা সম্ভব। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নখের ধার, গঠন এবং বৃদ্ধির হার পরিবর্তিত হয়। যেমন:
শিশু বিড়ালের (০-৬ মাস) নখ খুবই ক্ষুদ্র, নরম ও ধারালো হয়। এই বয়সে নখ স্বচ্ছ এবং সহজে বাঁকানো যায়। যেহেতু তারা নখ ব্যবহার করে মায়ের শরীরে চেপে দুধ পান করে, তাই এ সময় নখ তেমন ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।
বিড়ালের বয়স যখন ৬ মাস থেকে ২ বছর তখন নখ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং শক্তিশালী হয়। এই বয়সে নখ ধারালো থাকে এবং বিড়াল বেশি খোঁচাখুঁচি ও আঁচড়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলে। নখ সাধারণত মসৃণ ও চকচকে থাকে, যা তরুণ বিড়ালের স্বাস্থ্যকর অবস্থা নির্দেশ করে।
প্রাপ্তবয়স্ক বিড়ালের (২-৭ বছর) নখ শক্ত হয়, তবে অতিরিক্ত ধারালো নাও থাকতে পারে। নিয়মিত ঘষামাজা (scratching) করলে নখের বাইরের স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং নতুন নখ গজায়। এই বয়সে নখের বৃদ্ধি গড়পড়তা হয় এবং প্রাকৃতিকভাবে ক্ষয় হতে থাকে।
৭+ বছর বয়সের বিড়ালের নখ তুলনামূলকভাবে মোটা, রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নখের বৃদ্ধির হার কমে যায়, এবং এটি অতিরিক্ত লম্বা হয়ে যেতে পারে যদি নিয়মিত ক্ষয় না হয়। কিছু বয়স্ক বিড়ালের নখ ভিতরের দিকে বাঁকতে শুরু করে, যা চলাফেরায় অসুবিধা তৈরি করতে পারে।
শ্রবণ ক্ষমতার দ্বারা বিড়ালের বয়স বোঝা
বিড়ালের শ্রবণ ক্ষমতা পরীক্ষা করে তাদের বয়স সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমন বিড়ালের বয়স ৬ মাস পর্যন্ত বিড়ালের শ্রবণ ক্ষমতা খুবই সংবেদনশীল থাকে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ বয়স থেকেই তারা আশপাশের শব্দের প্রতি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। হালকা আওয়াজ, যেমন ফিসফিস বা ছোটখাটো খসখস শব্দেও তারা কান খাড়া করে ও উৎসের দিকে মনোযোগ দেয়।
সবচেয়ে প্রখর শ্রবণশক্তির অধিকারী হয় ৬ মাসের পর থেকে ২ বছর পর্যন্ত। খুব দূরের ক্ষীণ শব্দও সহজেই শুনতে পারে এবং শব্দের উৎস চিহ্নিত করতে পারে। শিকারের স্বভাবের কারণে তারা হালকা পদধ্বনি, জানালার বাইরে পাখির আওয়াজ বা খেলনার সামান্য শব্দেও সাড়া দেয়।
তবে এরপর থেকে কিছুটা পরিবর্তন দেখা দেয়, সব বার্তায় সাড়া দেয়া বাদ দিয়ে কেবল শুধু গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর প্রতি বেশি মনোযোগ দেয়, যেমন খাবার পরিবেশনের শব্দ বা পরিচিত মানুষের ডাক। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রবণশক্তি দুর্বল হয়।
স্পর্শকাতরতার মাধ্যমে বিড়ালের বয়স বোঝার উপায়
বিড়ালের স্পর্শকাতরতা বা সংবেদনশীলতা বয়স অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। শিশু বিড়াল খুব বেশি সংবেদনশীল হয়। তাদের ত্বক নরম ও স্পর্শের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। হালকা ছোঁয়াতেও তারা নড়েচড়ে ওঠে বা মা বিড়ালের উষ্ণতা খোঁজে।
৬ মাস – ২ বছরের বিড়াল স্বাভাবিকভাবে সংবেদনশীল থাকে এবং গোঁফ ও পায়ের তালুতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা খেলার সময় বা পরিবেশ অনুসন্ধানের সময় স্পর্শের ওপর বেশি নির্ভর করে।
তবে তুলনামূলকভাবে কম সংবেদনশীল হয় ২ থেকে বেশি বয়সের বিড়াল। পরিচিত ছোঁয়ায় তারা আরামবোধ করলেও অপরিচিত স্পর্শ এড়িয়ে চলতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবেদনশীলতা কমতে থাকে।
বংশগত বৈশিষ্ট্য দ্বারা বিড়ালের বয়স বোঝা
বংশগত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সরাসরি বিড়ালের বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, তবে কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য বয়স বৃদ্ধির সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হয়। কিছু জাতের বিড়াল, যেমন মেইন কুন ও র্যাগডল, ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক হয় এবং প্রায় ৩-৪ বছর বয়স পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
অন্যদিকে সিয়ামিজ বা অরিয়েন্টাল শর্টহেয়ার জাতের বিড়াল ১-২ বছরের মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। যদি কোনো বিড়াল ধীরে পরিণত হয়, তবে সেটির বয়স তুলনামূলক কম হতে পারে।
এছাড়া, কিছু বংশগত বৈশিষ্ট্য, যেমন গায়ের রঙ, গোঁফের গঠন বা চোখের পরিবর্তন, বয়সের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। কিছু বিড়াল বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙ পরিবর্তন করে, যেমন হিমালয়ান বা সিয়ামিজ বিড়ালের রঙ ছোটবেলায় হালকা থাকলেও বয়স্ক হলে গাঢ় হয়।
অতএব, বংশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিড়ালের বৃদ্ধির ধরণ ও কিছু শারীরিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে বয়স অনুমান করা যেতে পারে, তবে এটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়।
বিড়ালের গড় আয়ু কত হয়ে থাকে?
বিড়ালের গড় আয়ু সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছর হয়ে থাকে, তবে এটি বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু বিড়াল ২০ বছর বা তারও বেশি সময় বাঁচতে পারে, বিশেষ করে যদি তারা সুস্থ থাকে এবং ভালো যত্ন পায়। যেমন:
বাড়ির বিড়াল সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচে, তবে কিছু বিড়াল ২০ বছর বা তারও বেশি সময় বাঁচতে পারে কারণ এরা যথাযথ যত্ন ও ট্রিটমেন্ট পায়। অন্যদিকে বাহিরে ঘোরাঘুরি করা বিড়ালের গড় আয়ু কম হয়ে থাকে (প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর) কারণ তারা বিভিন্ন রোগ ও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে।
বিড়ালের বয়স বোঝা সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- প্রশ্ন: বিড়ালের বয়স কত বুজবো কিভাবে?
বিড়ালের বয়স বোঝার জন্য দাঁত, চোখ, পশম, শারীরিক গঠন এবং কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
- প্রশ্ন: দেশি বিড়াল কত বছর বাঁচে?
দেশি বিড়াল সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছর বাঁচে।
- প্রশ্ন: পার্সিয়ান বিড়াল কত বছর বাঁচে?
পার্সিয়ান বিড়াল ১৫ থেকে ২০ বছর বা তার বেশিও বাঁচতে পারে।
- প্রশ্ন: বিড়াল সর্বোচ্চ কত বছর বাঁচে?
কোনো কোনো বিড়াল ৩০ বছর পর্যন্তও বাঁচতে পারে, যদিও এটি খুব বিরল।
চূড়ান্ত মন্তব্য
সঠিক বয়স জানা বিড়ালের সঠিক পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য খুবই জরুরি। দাঁত, চোখ, পশম এবং আচরণের পরিবর্তন গুলো লক্ষ্য করে আপনি আপনার বিড়ালের বয়স সম্পর্কে একটি ধারণা পেতে পারেন। আশা করি, এই ব্লগ পোস্টটি আপনাকে আপনার বিড়ালের বয়স বুঝতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি আপনার বিড়াল সম্পর্কে কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা থাকলে, আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।