একদিন সন্ধ্যায় রাহাত বাসার ব্যালকনিতে বসে কাজ করছিল। হঠাৎ তার পোষা বিড়াল মেও এসে খেলা করতে করতে তার হাত চেটে দিলো। রাহাত আদর করতে গেলেই মেও হঠাৎ কামড়ে দিল! ব্যথা সহ্য করার মতো হলেও কামড়ের দাগ একটু গভীর ছিল।
প্রথমে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিল না, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর দেখল ক্ষতস্থান লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। ব্যথাও বাড়তে শুরু করলো। এখন কী করা উচিত? বিড়াল কামড়ালে কি হয়? বিড়ালের কামড় কি আসলেই এতটা বিপজ্জনক?
অনেকেই বিড়ালের কামড়কে সাধারণ মনে করে এড়িয়ে যান, কিন্তু এটি মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে। কেননা, বিড়ালের মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়াতে পারে, এমনকি জলাতঙ্কের ঝুঁকিও থেকে যায়।
তাই, বিড়াল কামড়ালে কী করণীয় এবং কীভাবে বিপদ এড়ানো যায়, তা জানা খুবই জরুরি। এই ব্লগ পোস্টে, বিড়ালের কামড় সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি, এর প্রতিকার এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
বিড়াল কামড়ালে কি হয়?
বিড়াল সাধারণত শান্ত এবং নিরীহ প্রাণী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু, পরিস্থিতি সাপেক্ষে এরা কামড়াতেও পারে। বিশেষ করে, বাচ্চা বিড়াল বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে বিড়াল ভয় পেলে কামড়াতে পারে। বিড়ালের কামড় ছোটখাটো মনে হলেও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বহন করে। বিড়ালের মুখে Pasteurella multocida, Bartonella henselae, এবং Staphylococcus ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং বিড়াল কামড়ানোর পর মুখ থেকে শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। এছাড়াও, বিড়ালের কামড় থেকে জলাতঙ্ক (Rabies) হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই, বিড়াল কামড়ালে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিড়ালের কামড়ের ধরন ও তার প্রভাব
বাচ্চা বিড়াল কামড়ালে কি হয়?
অনেকেই মনে করে বিড়ালের বাচ্চা কামড় দিলে কি হয? কিছুই না !! হ্যাঁ এটা ঠিক যে, বাচ্চা বিড়াল সাধারণত খেলতে গিয়েই কামড়ে দেয়। তবে তাদের কামড় বেশি গভীর না হলেও, কামড়ের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে। তবে কিচু কিছু ক্ষেত্রে বাচ্চা বিড়ালের দাঁত ছোট এবং সুঁচালো হওয়ার কারণে এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
যেহেতু বাচ্চা বিড়ালের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তাই তাদের মুখে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাই বাচ্চা বিড়াল ভেবে অবহেলা করা উচিৎ নয়। বিড়ালের কামড়ের ব্যাসিক যে চিকিৎসা সেটা গ্রহণ করা উচিৎ।
পূর্ণবয়স্ক বা ছোট বিড়াল কামড়ালে কি হয়?
ছোট বা পূর্ণবয়স্ক বিড়াল কামড়ালে ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে কামড়ের গভীরতা এবং বিড়ালের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর। একটি ছোট বিড়ালের কামড় হয়তো অগভীর হবে, কিন্তু একটি বয়স্ক বিড়ালের কামড় অনেক গভীর হতে পারে। গভীর কামড়ের কারণে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
গর্ভাবস্থায় বিড়াল কামড়ালে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় বিড়াল কামড়ালে তা মা এবং শিশু উভয়ের জন্যই উদ্বেগের কারণ। গর্ভাবস্থায় মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে যায়, তাই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়াও, কিছু রোগ যেমন টক্সোপ্লাজমোসিস (Toxoplasmosis) গর্ভবতী মায়ের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে ছড়াতে পারে এবং জন্মগত ত্রুটি ঘটাতে পারে। তাই, গর্ভাবস্থায় বিড়াল কামড়ালে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পোষা বিড়াল কামড়ালে কি হয়?
যদি আপনার পোষা বিড়াল কামড়ায়, তাহলে ঝুঁকি কিছুটা কম। বিশেষ করে যদি বিড়ালের নিয়মিত টিকা দেওয়া থাকে। তবে, পোষা বিড়াল কামড়ালেও সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়।
কারণ, বিড়ালের মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া কামড়ের মাধ্যমে আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই, পোষা বিড়াল কামড়ালেও ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করুন, তবে যদি বেশি ক্ষত হয় তবে একজন Vet এর সাথে পরামর্শ করতে ভুলবেন না।
বিড়ালকে বিড়াল কামড়ালে কি হয়?
এক বিড়ালকে অন্য বিড়াল কামড়ালে, কামড় খাওয়া বিড়ালের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। বিড়ালের মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু কামড়ের মাধ্যমে অন্য বিড়ালের শরীরে প্রবেশ করে।
যদি দুটি বিড়ালের মধ্যে মারামারি হয় এবং একটি বিড়াল অন্যটিকে কামড়ায়, তাহলে উভয় বিড়ালের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাস্তায় থাকা বিড়ালদের কামড়ানো হলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকে। পোষা বিড়ালের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
বিড়াল কে কুকুর কামড়ালে কি হয়?
যদি কুকুর বিড়ালকে কামড়ায়, তবে বিড়াল রেবিস সংক্রমিত হতে পারে। সেই বিড়াল যদি পরে কাউকে কামড়ায়, তবে আক্রান্ত ব্যক্তিও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হতে পারেন।
বিড়াল কামড়ালে কি পেটে বাচ্চা হয়?
এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। বিড়াল কামড়ালে পেটে বাচ্চা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিড়ালের কামড় একটি শারীরিক আঘাত যা থেকে সংক্রমণ হতে পারে, কিন্তু এর সাথে গর্ভধারণের কোনো সম্পর্ক নেই।
বিড়াল কামড় দিলে কোন রোগ হতে পারে?
রেবিস (Hydrophobia) বা জলাতঙ্ক
রেবিস একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে ছড়ায়। যদি কোনো রেবিস আক্রান্ত বিড়াল কামড়ায়, তাহলে মানুষের মধ্যে এই রোগ সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রেবিস ভাইরাস স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং সময়মতো চিকিৎসা না করালে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কিভাবে বুজবেন রেবিস হয়েছে কি-না? বিড়ালের জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, কামড়ানোর স্থানে ব্যথা বা চুলকানি, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, গিলতে অসুবিধা (হাইড্রোফোবিয়া), প্যারালাইসিস এবং শেষে কোমা।
ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ (Cat Scratch Disease – CSD)
ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ বার্টোনেলা হেনসেলেই (Bartonella henselae) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। বিশেষ করে, ছোট বিড়ালের মাধ্যমে এই রোগ বেশি ছড়ায়।
কিভাবে বুজবেন ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ হয়েছে কি-না? কামড়ানোর স্থানে ফোলাভাব, ব্যথা, জ্বর, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং লিম্ফ নোড ফুলে যাবে।
সেলুলাইটিস ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ
বিড়ালের মুখে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা কামড়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে সেলুলাইটিস (Cellulitis) বা অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ ঘটাতে পারে। পাস্তুরেল্লা মালটোসিডা (Pasteurella multocida) নামক ব্যাকটেরিয়া বিড়ালের কামড়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে দ্রুত সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
কিভাবে বুজবেন বিড়ালের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হয়েছে কি-না? বিড়ালকে কামড়ানোর স্থানে লালচে ভাব, ফোলা, ব্যথা, গরম অনুভব করা, জ্বর এবং পুঁজ জমা হয়ে যাবে।
বিড়াল কামড়ালে কি করনীয়?
বিড়াল রাস্তার হোক কিংবা পোষা, কামড়ালে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত যাতে করে সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে। নিচে তাৎক্ষণিক কিছু করণীয় সম্পর্কে জানানো হলো:
১) ক্ষতস্থান পরিষ্কার করুন: কামড়ের জায়গাটি দ্রুত গরম পানি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। কমপক্ষে ৫-১০ মিনিট ধরে ধোয়া উচিত।
২) অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করুন: ক্ষতস্থান ধোয়ার পর একটি অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ (যেমন: বেটাডিন, স্যাভলন বা স্পিরিট) লাগান।
৩) রক্তপাত বন্ধ করুন: যদি ক্ষত থেকে রক্ত বের হতে থাকে, তাহলে পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে চেপে ধরুন যতক্ষণ না রক্তপাত বন্ধ হয়।
৪) ক্ষত ঢেকে রাখুন: যদি ক্ষত গভীর হয়, তাহলে পরিষ্কার গজ বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দিন। এটি বাইরের ধুলাবালি ও জীবাণু থেকে ক্ষতকে রক্ষা করবে।
৫) বিড়ালের তথ্য সংগ্রহ করুন: যদি সম্ভব হয়, বিড়ালটির মালিকের কাছ থেকে বিড়ালের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য, যেমন – টিকা দেওয়া আছে কিনা, তা জানার চেষ্টা করুন। এটি আপনার চিকিৎসার জন্য সহায়ক হতে পারে।
৬) ডাক্তারের পরামর্শ নিন: যদি ক্ষত গুরুতর হয়, ফোলা থাকে বা পুঁজ বের হয়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
বিড়াল কামড়ানোর পর কি করা উচিত?
বিড়াল কামড়ালে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর জন্য দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমেই ক্ষতস্থান প্রচুর পানি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ, যেমন বিটাডিন বা হাইড্রোজেন পারক্সাইড, লাগালে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে।
যদি রক্তপাত হয়, তাহলে পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে চেপে ধরে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে। এরপর ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ লাগানো উচিত, তবে খুব টাইট না করে যেন বাতাস চলাচল করতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে বা ক্ষত গভীর হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে রেবিস বা টিটেনাস ভ্যাকসিন গ্রহণ করা জরুরি। দ্রুত সঠিক ব্যবস্থা নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে এবং ক্ষত দ্রুত ভালো হবে।
বিড়াল কামড়ালে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়?
বিড়াল কামড়ালে রেবিস এবং টিটেনাস ভ্যাকসিন গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে বিড়ালের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং আপনার পূর্ববর্তী টিকাদানের ইতিহাসের ওপর। যেমন:
রেবিস ভ্যাকসিন
যদি কামড়ানো বিড়াল রেবিসে আক্রান্ত হয় এবং রেবিসের টিকা দেওয়া না থাকে অথবা বিড়ালটি যদি বন্য হয়, তাহলে রেবিস ভ্যাকসিন (Post Exposure Prophylaxis – PEP) নিতে হবে। এক্ষেত্রে ডোজ শিডিউল হলো:
- ১ম ডোজ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
- ২য় ডোজ: ৩য় দিনে
- ৩য় ডোজ: ৭ম দিনে
- ৪র্থ ডোজ: ১৪তম দিনে
অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ
সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন: Amoxicillin-Clavulanate) দিতে পারেন। সেলুলাইটিসের ক্ষেত্রে Cephalexin বা Doxycycline ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্ষত বেশি গুরুতর হলে টিটেনাস টিকা দিতে হতে পারে। এবং ক্ষতস্থানে ব্যথা কমাতে Antibiotic Cream (Neosporin, Mupirocin) ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিড়ালের কামড়ের সেলুলাইটিসে কোন এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়?
বিড়ালের কামড়ের কারণে সেলুলাইটিস হলে সাধারণত Amoxicillin-Clavulanate নামক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। এটি একটি Broad-spectrum অ্যান্টিবায়োটিক, যা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। এছাড়াও, Doxycycline অথবা Cephalexin ও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত।
বিড়াল কামড়ালে কতদিন এন্টিবায়োটিক খেতে হয়?
বিড়াল কামড়ালে অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত হতে পারে, যা সংক্রমণের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। ডাক্তার আপনার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং সংক্রমণের ধরন দেখে সঠিক সময় নির্ধারণ করবেন। তাই, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করা উচিত।
বিড়ালের আঁচড়ের জন্য কোন অ্যান্টিবায়োটিক মলম ব্যবহার করা যায়?
বিড়ালের আঁচড়ের জন্য সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক মলম ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। তবে, যদি আঁচড়ের স্থানটি সংক্রমিত হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে Bacitracin অথবা Neomycin-Polymyxin B জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক মলম ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিড়াল কামড়ালে কতদিন পর ডাক্তার দেখাতে হয়?
বিড়াল কামড়ানোর পরে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদি কামড়ের স্থানটি গভীর হয়, ফোলা থাকে, লাল হয়ে যায় বা পুঁজ বের হয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। এছাড়াও, যদি আপনার আগে টিটেনাস টিকা নেওয়া না থাকে বা অনেক দিন আগে নিয়ে থাকেন, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিড়ালের কামড়ানো প্রতিরোধের উপায়
আপনার পোষা বিড়াল অতিরিক্ত কামড়াচ্ছে? চিন্তার কিছু নেই! বিড়াল স্বাভাবিকভাবেই খেলাধুলার সময় বা অতিরিক্ত উত্তেজিত হলে কামড় দিতে পারে। তবে বেশি কামড়ানো স্বাভাবিক আচরণ নয়, তাই কিছু উপায় মেনে চললে এটি কমানো সম্ভব। যেমন:
১) বিড়ালের নখ ঠিকমতো কাটুন: অনেক সময় বিড়ালের নখ বড় হলে তারা কামড়ানোর পাশাপাশি আঁচড় দেয়। তাই নিয়মিত নখ কাটা দরকার। এজন্য Simple Nail Cutter ব্যবহার করতে পারেন। এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে সহজেই বিড়ালের নখ কাটা যায় এবং তারা আরামদায়ক অনুভব করে।
২) কামড়ানোর জন্য আপনার হাতের বিকল্প দিন: বিড়াল কামড়ানো কমানোর জন্য তাদের খেলার বিকল্প দিন, যেমন: Door Attached Teasing Toy, Electric Pet Ball Automatic Rolling Ball বা অন্য ধরণের Cat Toys। এছাড়া, যদি বিড়াল অতিরিক্ত কামড়ায়, তাহলে তাদের কিছুক্ষণ একা রেখে দিন, যাতে বুঝতে পারে এটি ঠিক আচরণ নয়।
৩) প্রশিক্ষণ দিন: আপনার বিড়াল যাতে কামড় না দেয়, সে জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। যদি তারা কামড়ায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে শব্দ ও হাতের ইশারায় ‘না’ বলুন এবং বিকল্প কিছু দিন, যেমন খেলনা বা চিউ টয়। ধৈর্য ধরলে বিড়াল আস্তে আস্তে শিখে যাবে।
বিড়াল কামড় বিষয়ক কিছু প্রশ্নের উত্তর (FAQ)
- বিড়াল কামড়ালে কি rabies vaccine নিতে হয়?
যদি বিড়ালটি টিকা দেওয়া না থাকে, তাহলে rabies vaccine নেওয়া উচিত।
- গর্ভাবস্থায় বিড়াল কামড়ালে কি কোনো সমস্যা হতে পারে?
হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় বিড়াল কামড়ালে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে এবং দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- বিড়াল কামড়ানোর কতক্ষণ পর ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত?
যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত, বিশেষ করে যদি ক্ষত গভীর হয় বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যায়।
- পোষা বিড়াল কামড়ালে কি rabies হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?
যদি পোষা বিড়ালের নিয়মিত টিকা দেওয়া থাকে, তাহলে rabies হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
- বিড়াল কামড়ালে কি tetanus injection নিতে হয়?
যদি আপনার tetanus টিকার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়, তাহলে tetanus injection নেওয়া উচিত।
- বিড়ালের কামড় কি বিপজ্জনক?
বিড়ালের কামড় থেকে সংক্রমণ এবং rabies-এর মতো রোগ হতে পারে, তাই এটি বিপজ্জনক।
- বিড়াল কামড়ালে প্রাথমিক চিকিৎসা কি?
ক্ষতটিকে সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক লাগানো।
- বিড়াল কামড়ালে কোন রোগ হয়?
বিড়াল কামড়ালে rabies, cat scratch disease এবং ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হতে পারে।
চূড়ান্ত মন্তব্য
বিড়ালের কামড় ছোটখাটো মনে হলেও, এটি অবহেলা করা উচিত নয়। আশা করছি বিড়াল কামড়ালে কি হয় সেটি উক্ত আর্টিকেলের দ্বারা জানতে পেরেছেন। তাই সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে আপনি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা পাবেন। বিড়াল কামড়ালে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করুন। আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।